আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও জনগণের সাথে প্রতারণা
আন্দোলন প্রতিবেদন
সোমবার, ১৮ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ একটি নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছে। এই ইশতেহারে ১১টি ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের ইশতেহারের সাথে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ইশতেহারে তেমন কোনো পার্থক্য নেই, কিছু শব্দের এদিক-ওদিক ছাড়া। তথাপি আমাদের ছোট পরিসরে কিঞ্চিত পর্যালোচনা করা যাক জনজীবনের সমস্যার বিষয়ে।
প্রথমত, ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেয়া হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আকাশ ছুঁয়েছে। নির্বাচনের পরও চালের দাম প্রতি বস্তায় ৪০০ টাকা করে বেড়েছে। ৮ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি’২৪-এর মধ্যে চাল-আটা সহ ১৩টি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
দ্বিতীয়ত, কর্মোপযোগী শিক্ষা ও কর্মসংস্থান তারা নিশ্চিত করবে বলছে। শিক্ষায় তারা নতুন কারিকুলাম নিয়েছে। এই কারিকুলাম নিয়ে জনগণের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক এ বিষয়ে আলোচনা সভা করতে চেয়েছিলেন, হাসিনা ফ্যাসিবাদী সরকার সে সভা করতে দেয়নি। তাদের নিজেদের পছন্দ মত বিশেষজ্ঞ দিয়ে ‘বিদেশের মতো পড়াশুনা পদ্ধতি’র কথা বলে তারা দেশীয় বাস্তবতার তোয়াক্কা না করে জোর জবরদস্তি করে জনগণের উপর তা চাপিয়ে দিয়েছে। এই শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের আরো বেশি কোচিং নির্ভর করে তুলবে। গাইড বই নিষিদ্ধের কথা বললেও গাইড বইয়ে বাজার সয়লাব। ধনী-গরিব বৈষম্যের এই কারিকুলামকে তারা বলছে উন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। এটা হলো জনগণের সাথে স্রেফ প্রতারণা। এসব তারা করছে তাদের সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী প্রভুদের স্বার্থে সস্তা-শ্রম তৈরির উদ্দেশ্যে। নিজেদের সন্তানকে তারা এই কারিকুলামে পড়াচ্ছে না। পড়াচ্ছে বিদেশে। এ থেকেই এদের ভাওতাবাজির প্রমাণ পাওয়া যায়।
তৃতীয়ত, তারা বলছে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তুলবে। তাদের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র ডিজিটাল লুটপাটের সমালোচনা ঢাকতে তারা নতুন করে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ শব্দ আমদানি করেছে। তাদের তথাকথিত 'স্মার্ট বাংলাদেশ' যে স্মার্ট লুটপাটের কারখানা হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ২০১৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের ইশতেহার দিয়ে তাদের এমপি-মন্ত্রী-আমলারা মিলে বিদেশে বাড়ি করেছে। সত্যিই স্মার্ট বাংলাদেশ বটে!
চতুর্থত, তারা বলেছে কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে। বহু কৃষি জমি ইতিমধ্যেই ধ্বংস করেছে, আরো পরিকল্পনা করছে। আইএফএম-এর শর্ত মানতে তারা জ্বালানি তেল-বিদ্যুৎ এবং পানির দাম বাড়াবে, কৃষিসহ এসব খাতে ভতুর্কি থেকে সরে আসবে। নির্বাচনের আগে তা করেনি, এখন তা করবে। সুতরাং বিনিয়োগ বৃদ্ধি মানে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ নির্ভর করে তুলছে/তুলবে। কৃষি জমি ধ্বংস করে ১০০টি শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলবে। প্রভুদের লুটপাটের মৃগয়াক্ষেত্রে পরিণত করবে।
পঞ্চমত, ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলেছে। বিগত সময়ে ব্যাংক খাতে তারা কি করেছে? বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি’র তথ্যমতে গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক প্রভাবে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে (বিবিসি অনলাইন, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩)। হাসিনার আর্শ্বিাদপুষ্ট এস আলম গ্রুপ একাই শুধুমাত্র ইসলামী ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা। এভাবেই তারা ব্যাংক খাতকে লুটপাট করে বিদেশে বেগম পাড়া ও রিসোর্ট বানানোর হাতিয়ার করেছে।
এছাড়া তাদের ইশতেহারে তারা নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা সুলভ করা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদ রোধ করা ও সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার প্রসার ঘটানোর কথা বলেছে।
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির কথা বলাতে সাংবাদিকদের উপর তাদের ডিজিটাল/সাইবার নিরাপত্তা আইনে যা তারা করছে তা ভুক্তভোগী জনগণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর বিগত ১৫ বছরে বুর্জোয়া নির্বাচনি ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে কুক্ষিগত ক্ষমতার নবায়ন করতে ‘নির্বাচনে’ সব ধরনের বাহিনীকে ব্যবহার করছে। তাদের মুখে গণতন্ত্র চর্চার কথা আর জবাবদিহির কথা বলা ভণ্ডামি ছাড়া আর কি হতে পারে।
তাই আওয়ামী ইশতেহার প্রত্যাখ্যান করে জনগণকে নিজেদের ক্ষমতা তথা গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদ উচ্ছেদ করে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য লড়াই-সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও জনগণের সাথে প্রতারণা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ একটি নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছে। এই ইশতেহারে ১১টি ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের ইশতেহারের সাথে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ইশতেহারে তেমন কোনো পার্থক্য নেই, কিছু শব্দের এদিক-ওদিক ছাড়া। তথাপি আমাদের ছোট পরিসরে কিঞ্চিত পর্যালোচনা করা যাক জনজীবনের সমস্যার বিষয়ে।
প্রথমত, ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেয়া হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আকাশ ছুঁয়েছে। নির্বাচনের পরও চালের দাম প্রতি বস্তায় ৪০০ টাকা করে বেড়েছে। ৮ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি’২৪-এর মধ্যে চাল-আটা সহ ১৩টি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
দ্বিতীয়ত, কর্মোপযোগী শিক্ষা ও কর্মসংস্থান তারা নিশ্চিত করবে বলছে। শিক্ষায় তারা নতুন কারিকুলাম নিয়েছে। এই কারিকুলাম নিয়ে জনগণের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক এ বিষয়ে আলোচনা সভা করতে চেয়েছিলেন, হাসিনা ফ্যাসিবাদী সরকার সে সভা করতে দেয়নি। তাদের নিজেদের পছন্দ মত বিশেষজ্ঞ দিয়ে ‘বিদেশের মতো পড়াশুনা পদ্ধতি’র কথা বলে তারা দেশীয় বাস্তবতার তোয়াক্কা না করে জোর জবরদস্তি করে জনগণের উপর তা চাপিয়ে দিয়েছে। এই শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের আরো বেশি কোচিং নির্ভর করে তুলবে। গাইড বই নিষিদ্ধের কথা বললেও গাইড বইয়ে বাজার সয়লাব। ধনী-গরিব বৈষম্যের এই কারিকুলামকে তারা বলছে উন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। এটা হলো জনগণের সাথে স্রেফ প্রতারণা। এসব তারা করছে তাদের সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী প্রভুদের স্বার্থে সস্তা-শ্রম তৈরির উদ্দেশ্যে। নিজেদের সন্তানকে তারা এই কারিকুলামে পড়াচ্ছে না। পড়াচ্ছে বিদেশে। এ থেকেই এদের ভাওতাবাজির প্রমাণ পাওয়া যায়।
তৃতীয়ত, তারা বলছে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তুলবে। তাদের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র ডিজিটাল লুটপাটের সমালোচনা ঢাকতে তারা নতুন করে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ শব্দ আমদানি করেছে। তাদের তথাকথিত 'স্মার্ট বাংলাদেশ' যে স্মার্ট লুটপাটের কারখানা হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ২০১৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের ইশতেহার দিয়ে তাদের এমপি-মন্ত্রী-আমলারা মিলে বিদেশে বাড়ি করেছে। সত্যিই স্মার্ট বাংলাদেশ বটে!
চতুর্থত, তারা বলেছে কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে। বহু কৃষি জমি ইতিমধ্যেই ধ্বংস করেছে, আরো পরিকল্পনা করছে। আইএফএম-এর শর্ত মানতে তারা জ্বালানি তেল-বিদ্যুৎ এবং পানির দাম বাড়াবে, কৃষিসহ এসব খাতে ভতুর্কি থেকে সরে আসবে। নির্বাচনের আগে তা করেনি, এখন তা করবে। সুতরাং বিনিয়োগ বৃদ্ধি মানে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ নির্ভর করে তুলছে/তুলবে। কৃষি জমি ধ্বংস করে ১০০টি শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলবে। প্রভুদের লুটপাটের মৃগয়াক্ষেত্রে পরিণত করবে।
পঞ্চমত, ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলেছে। বিগত সময়ে ব্যাংক খাতে তারা কি করেছে? বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি’র তথ্যমতে গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক প্রভাবে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে (বিবিসি অনলাইন, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩)। হাসিনার আর্শ্বিাদপুষ্ট এস আলম গ্রুপ একাই শুধুমাত্র ইসলামী ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা। এভাবেই তারা ব্যাংক খাতকে লুটপাট করে বিদেশে বেগম পাড়া ও রিসোর্ট বানানোর হাতিয়ার করেছে।
এছাড়া তাদের ইশতেহারে তারা নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা সুলভ করা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদ রোধ করা ও সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার প্রসার ঘটানোর কথা বলেছে।
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির কথা বলাতে সাংবাদিকদের উপর তাদের ডিজিটাল/সাইবার নিরাপত্তা আইনে যা তারা করছে তা ভুক্তভোগী জনগণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর বিগত ১৫ বছরে বুর্জোয়া নির্বাচনি ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে কুক্ষিগত ক্ষমতার নবায়ন করতে ‘নির্বাচনে’ সব ধরনের বাহিনীকে ব্যবহার করছে। তাদের মুখে গণতন্ত্র চর্চার কথা আর জবাবদিহির কথা বলা ভণ্ডামি ছাড়া আর কি হতে পারে।
তাই আওয়ামী ইশতেহার প্রত্যাখ্যান করে জনগণকে নিজেদের ক্ষমতা তথা গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদ উচ্ছেদ করে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য লড়াই-সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র